1. admin@dailylikonisongbad.com : admin :
  2. mdsohaghasan333@gmail.com : Sohag RAHMAN : Sohag RAHMAN
সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের সংগীত শিল্পী ও সুরকার সুধীন দাসের জন্মদিন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩১ বার পঠিত

উজ্জ্বল কুমার সরকার

আজ ৩০ এপ্রিল বরেণ্য নজরুলসঙ্গীত শিল্পী, গবেষক, সুরকার সুধীন দাশ এঁর জন্মদিন। সুধীন দাশ বাংলাদেশের একজন সঙ্গীতজ্ঞ এবং সঙ্গীত গবেষক। বাংলাদেশে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যাঁরা বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। সঙ্গীতের প্রতিটি শাখায় সুধীন দাশ সদর্পে বিচরণ করে নিজেকে সঙ্গীতের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। বাংলা গানকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে তার অবদান অসীম। তার বিশেষত্ব হচ্ছে নজরুল সঙ্গীতের আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের বাণী ও সুর অনুসারে স্বরলিপি গ্রন্থ লেখা।
সুধীন দাশ এ পর্যন্ত নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে ১৬টি ও নজরুল একাডেমি থেকে ৫টিসহ মোট ২১টি খণ্ডে নজরুলের গানের স্বরলিপি গ্রন্থ বের করেছেন। লালনগীতির ক্ষেত্রেও তার অবদান সর্বজনস্বীকৃত। তিনিই প্রথম লালনগীতির স্বরলিপি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।
সুধীন দাশ জীবনের পুরোটাই তিনি দিয়েছেন গানের পেছনে। গান গেয়েছেন সুর করেছেন, স্বরলিপি লিখেছেন, কাজ করেছেন সংগীতপরিচালক হিসেবে, গবেষণা তো বটেই। বাংলা গানের ধ্রুবতারা কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে শ্রোতার কাছে শুদ্ধরূপে পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনিই করেছেন। তিনি সুধীন দাশ।
১৯৮৮ সালে একুশে পদক পাওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন বহু পুরস্কার, সম্মাননা। আরও পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা।
সংগীতশিল্পী সুধীন দাশ। সংগীতবিশেষজ্ঞ, সুরকার, সংগীতপরিচালক, গবেষকসহ আরও এমন অনেক পরিচয়ে পরিচিত তিনি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যে পরিচয়—তিনি আমাদের বাংলা গানের ধ্রুবতারা কাজী নজরুল ইসলামের গানের স্বরলিপিকার। গানপাগল একজন। ৩০শে এপ্রিল সুধীন দাশ কুমিল্লা শহরের তালপুকুর পাড়ের বাগিচাগাঁওয়ে জন্মেছিলেন তিনি। সেটা ১৯৩০ সালের কথা। তিন বোন আর ছয় ভাইয়ের পর মায়ের কোলজুড়ে এসেছিলেন সুধীন দাশ।
বাবা নিশিকান্ত দাশ ও মা হেমপ্রভা দাশের আদর-স্নেহের বড় একটা অংশই তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল। বড় ভাইবোনদের আদরও কম পাননি। তাই অতি আদরে যা হয়, ‘বাউণ্ডুলে’ তকমাটা বেশ শক্ত করেই সেঁটে গিয়েছিল তাঁর নামের সঙ্গে!
তবে সুধীন দাশ বাউণ্ডুলে হলে হবে কী, ‘পড়াশোনায় বেশ ভালোই ছিলেন, প্রথম না হলেও ক্লাসরোল থাকত ওপরের দিকেই।’পড়াশোনার প্রথম হাতেখড়ি হয়েছিল বামচন্দ্র পাঠশালায়। এরপর তৃতীয় শ্রেণিতে উঠে চলে যান ঈশ্বর পাঠশালায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে সেই পাঠশালাটা বন্ধ হয়ে যায়। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হন ভিক্টোরিয়া কলেজে।’ কলেজের চৌহদ্দি পেরোলে আসে বিএ পরীক্ষার ডাক। তবে তত দিনে পড়াশোনার চেয়ে অন্য বিষয়ে বেশি মন দিয়েছেন তিনি।
তবে ছেলেবেলা থেকে চঞ্চল প্রকৃতির হলেও গানের ব্যাপারে দারুণ আগ্রহ ছিল সুধীন দাশের।’ সংগীতের প্রতি ভালোবাসার বীজটা সুধীন দাশের বড় দাদাবপন করেছিলেন। তিনিই ছিলেন তার সংগীতগুরু।
প্রথম প্রথম গান শেখাতে চাইতেন না তিনি। মা বলতেন, ছেলেটা যখন গান শিখতে চাইছে, তুমি বারণ করছ কেন? দাদার উত্তর, আগে পড়ালেখাটা করতে দাও, তারপর দেখা যাবে। দাদা ছেলেমেয়েদের গান শেখাতেন, সুধীন দাশ ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে তা শুনতেন।
সব শুনে ফাঁক পেলেই মাঠে গিয়ে গলা সাধতেন তিনি। একদিন ছাত্ররা গান তুলতে পারছে না, দাদা রেগে গেলেন—এত চেষ্টা করেও তোমাদের শেখাতে পারছি না, অথচ ঘরের পেছনে যারা ঘুরঘুর করছে, তারা তো ঠিকই শিখে চলে যাচ্ছে!
ব্যস, আর কী চাই, সেই কথাগুলোই ছিল সুধীন দাশের সংগীতজীবনের বড় প্রেরণা। এরপর দীর্ঘদিন দাদার কাছে উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম নিয়েছেন। দাদার সেই ভালোবাসা আর শিক্ষাই সুধীন দাশের জীবনের পাথেয়।
এরপর সুধীন দাশের বেতারে গান গাওয়া শুরু। ১৯৪৮ সালের ৮ মার্চের ঘটনা সেটা। দুটি গান গেয়েছিলেন সেই তার শুরু। এরপর নিয়মিত বেতারে গাইতে শুরু করেছেন। তখন শিল্পী ছিল হাতে গোনা। মাসে চার দিন গাওয়ার সুযোগ পেতেন।
তিন অধিবেশন মিলিয়ে অনেক গানই গাইতে হতো তাকে । রবীন্দ্রসংগীতই বেশি হতো, পাশাপাশি আধুনিক গান এবং রাগপ্রধান গানও থাকত। গান গাওয়ার সম্মানী হিসেবে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো ১০ টাকার একটা চেক।
তখন কুমিল্লা থেকে যাতায়াত করতে হতো । আসা-যাওয়া ও অন্যান্য খরচ বাদে সে সময় হাতে থাকত চার টাকার মতো। বেতারে তখন শিল্পীর পাশাপাশি সুরকারেরও বেশ শূন্যতা। তাই সুরকার হিসেবেও নিয়োগ পেয়েছেন সুধীন দাশ।
তখন নজরুলসংগীত বলে আলাদা কিছু ছিল না। আধুনিক বাংলা গান কিংবা রাগপ্রধান গান হিসেবে নজরুলের গান গাওয়া হতো। এটা বেজায় কষ্টের ছিল সুধীন দাশের নিকট
নজরুল যখন একসময় নিদারুণ অর্থকষ্টে ছিলেন, তখন তাঁকে দেখার কেউ ছিল না। অথচ তিনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, নির্বাক অচৈতন্য অবস্থা। জাগতিক চাহিদা বলতে যখন কিছুই নেই তাঁর, তখনই তাঁকে নিয়ে শুরু হলো রশি-টানাটানি খেলা!
এপার বাংলায় ওপার বাংলায় ধুমছে নজরুলের গান বাজতে লাগল। ১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে পাকিস্তান রেডিওতে নজরুলের গান আলাদাভাবে মর্যাদা পেল “নজরুলগীতি” হিসেবে। সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যায় নজরুলগীতি।
তবে সর্বনাশের শুরুটাও সেখান থেকেই। বারোটা বেজে যায় নজরুলের গানের কথা ও সুরের! যাঁরা জীবনেও নজরুলের গান করেননি, তাঁরাও নজরুলগীতি গাইতে শুরু করলেন জনপ্রিয়তার মোহে।
নজরুল অসুস্থ থাকাকালীন তাঁর গানের প্রচার-প্রসার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নজরুলসংগীতের অন্ধকার সময় বলা যায় সে সময়টাকে। তো, তাতে করে সে সময় নজরুলের গান বেশ দুর্লভ হয়ে পড়ে।
তাই কোনো কিছু না জেনে, না বুঝে বিকৃত সুর ও কথায় শিল্পীরা নজরুলের গান গাইতে থাকলেন। চূড়ান্ত বিভ্রান্তি যাকে বলে!’ একদিকে দেশে নজরুলের গান নিয়ে যথেচ্ছাচার, অন্যদিকে কলকাতা থেকে তখন প্রকাশিত হতে থাকে নজরুলের গানের ভুলে ভরা স্বরলিপি।
নজরুলের একসময়ের কাছের বন্ধুরাই সেসব করতে শুরু করেন। এদিকে বিশেষ কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নয়, ছেলেবেলা থেকে নজরুলের গানের আদি গ্রামোফোন রেকর্ড শুনে শুনে নজরুলসংগীত আত্মস্থ করেছিলেন সুধীন দাশ। নজরুলের গানের আদি ও অকৃত্রিম রূপটা ভালো করেই জানতেন তিনি।
স্বভাবতই ভুলে ভরা স্বরলিপি দেখে আঁতকে ওঠেন সুধীন দাশ প্রতিবাদের ভাষা খ

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ দৈনিক লিখনী সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park